আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রচণ্ড গরম, কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে ভারতের মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো তরুণ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) আয়োজিত এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিভিন্ন যুব ও শিক্ষার্থী সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি নাগরিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল ভারতের তেরঙ্গা পতাকা, ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার ও বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড।
বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান স্লোগান ছিল—‘জ্ঞানু মাস্ট গো’। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পোস্টার ও স্লোগানে সিনেমা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রসঙ্গও ব্যবহার করা হয়।
কর্মসূচিকে ঘিরে শিবাজি পার্ক ও আশপাশের এলাকায় আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মুম্বাই পুলিশ এর আগে এ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরও নির্ধারিত সময়ে বিক্ষোভকারীরা সেখানে জড়ো হন। দাদর স্টেশনসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
দীপকে অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা যথাযথভাবে সমাধান করা হয়নি। তার দাবি, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রয়োজন।
এর আগে বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে সংবাদ সম্মেলনে দীপকে জানিয়েছিলেন, তাদের আন্দোলনের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। এগুলো হলো—জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা বহাল রেখে নির্বাচন আয়োজন এবং পরবর্তী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আরও স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
শিবাজি পার্কের সমাবেশে অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্রীয় সরকারেরও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগগুলোর সমাধান না হওয়ায় আন্দোলনকারীদের আবারও রাস্তায় নামতে হয়েছে।
দীপকে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে বড় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আবারও বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিবাজি পার্কের কর্মসূচিতে চলচ্চিত্র অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, অভিনেত্রী শাবানা আজমি, সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি, পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতির কথা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
বিক্ষোভে বিভিন্ন যুব ও শিক্ষার্থী সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন। পোস্টার, পথনাটক, ব্যঙ্গাত্মক গান ও নানা স্লোগানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচির প্রতিবাদে মুম্বাইয়ের মন্ত্রণালয়ের কাছেও একটি পাল্টা বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে প্রায় দেড়শ তরুণ-তরুণী অংশ নিয়ে সিজেপি ও অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
অন্যদিকে, দিল্লিতেও একই ইস্যুতে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি হয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলে পাঁচ শতাধিক মানুষকে আটক করার খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ ও ভোটার তালিকা নিয়ে তাদের দাবিগুলো রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কের এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দলটির পক্ষ থেকে দেশটির বিভিন্ন শহরে আরও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন