ডেস্ক রিপোর্টঃ দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অনুষ্ঠানে জ্বালানি সচিব খাইরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের লোকেশন-সি এলাকায় কূপটির অবস্থান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। প্রায় ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খননের পর কূপটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
কূপটির খননকাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানকুইন ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে বিজিএফসিএল সূত্র জানিয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিলের চুক্তির আওতায় রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণ, খননযন্ত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোবিলাইজেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল।
বিজিএফসিএল জানিয়েছে, তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ ২৭ মে শেষ হয়। এরপর কূপটির উৎপাদন সক্ষমতা ও গ্যাসের প্রবাহসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ১৯ জুন থেকে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ দিয়ে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। পরীক্ষামূলক সরবরাহের সময় প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কূপটির নিয়মিত উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হলো। কূপটি থেকে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ২৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তিতাস-২৮ যুক্ত হওয়ায় এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়বে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, তিতাস-২৮ থেকে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিজিএফসিএলের আরও কয়েকটি কূপের কাজ এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাসের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর এবং বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপ থেকে আরও প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিতাস-২৮-এর ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুটসহ পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর মধ্যে তিতাস-৩১ একটি গভীর অনুসন্ধান কূপ। এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। তবে নতুন মজুতের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য কূপটির খনন ও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়া প্রয়োজন। ফলে সম্ভাব্য মজুত নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো পরিমাণ নিশ্চিত করা হয়নি।
দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন কূপ খনন, বিদ্যমান কূপের উন্নয়ন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিতাস-২৮ থেকে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ।
বিজিএফসিএলের আওতায় আরও কয়েকটি প্রকল্পও চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে গ্যাসের মজুত যাচাই ও উৎপাদনের জন্য কূপ খনন, গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন, বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভার এবং তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের বিভিন্ন লোকেশনে ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপনের কাজ রয়েছে।
তিতাস-২৮ কূপের নিয়মিত উৎপাদন শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দেশীয় উৎসের গ্যাসের সরবরাহ নতুন করে বাড়ল। পাশাপাশি অন্যান্য চলমান কূপের কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডে আরও গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন