নিজস্ব প্রতিবেদক: ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) আগের সুবিধাভোগীর তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ পাওয়া গেছে। যাচাই শেষে বর্তমানে ৮০ লাখ প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আগের তালিকায় মোট ১ কোটি উপকারভোগী পরিবার ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর ওই তালিকার প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তথ্য সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে ৮০ লাখ প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অর্থাৎ, যাচাই করা তালিকার ভিত্তিতে টিসিবির সুবিধা প্রকৃত নিম্নআয়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এর আগে টিসিবির সুবিধাভোগীদের তালিকা নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে সরকার জানিয়েছিল, যোগ্য নন এমন ব্যক্তিদের কার্ড বাতিল করা এবং সক্রিয় কার্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সর্বশেষ রমজানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ সুবিধাভোগী টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পেয়েছেন। এবার এই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ করার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে টিসিবির পণ্য বিক্রির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। গত বছর ঈদুল আজহায় প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টন করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যচাপ তৈরি হলে কিংবা বিশেষ পরিস্থিতি ও উৎসবের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু রাখার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সরকারের লক্ষ্য হলো নিম্নআয়, নিম্ন-মধ্যম আয়ের এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকিমূল্যে সরবরাহ করা। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে টিসিবির কার্যক্রমকে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
টিসিবির কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক ডিজিটাল মনিটরিং চালুর পরিকল্পনা করছে। আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার বিষয়টিও রয়েছে।
টিসিবির ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সরকারের লক্ষ্য হলো টিসিবির পণ্য বিতরণ ও ডিলার ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বাড়ানো এবং সুবিধাভোগীদের কাছে ভর্তুকির সুবিধা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন