ডেস্ক রিপোর্টঃ নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় ধাপ শেষ করে তারা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এরপরও বিভিন্ন জেলায় প্রকাশিত নিয়োগের তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল।
পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বেশ কিছু প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।
নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫টি জেলার তথ্য বিশ্লেষণ করে ৩৫১ জনের নিয়োগপত্র না পাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ১২০ জন, বগুড়ায় ৪৮ জন, পাবনায় ৩৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ জন এবং মানিকগঞ্জে ২২ জন রয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জেলার তথ্য যুক্ত হওয়ায় নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। একটি প্রার্থী সংগঠনের হিসাবে সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ প্রায় দুই হাজার প্রার্থী নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেছে। তবে এ সংখ্যা এখনো সরকারি কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিয়ে নিশ্চিত করা হয়নি।
নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের অনেকে দাবি করছেন, তারা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু নিয়োগপত্র বিতরণের সময় তাদের নাম তালিকায় না থাকায় তারা বাদ পড়ার কারণ জানতে চাইছেন।
কিছু প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে তাদের নিয়োগ আটকে থাকতে পারে বলে জানতে পেরেছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই কারণ প্রযোজ্য কি না, তা এখনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়নি।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের প্ল্যাটফর্মগুলোর পক্ষ থেকে বাদ পড়ার কারণ স্পষ্টভাবে প্রকাশ, প্রয়োজন হলে পুনরায় ভেরিফিকেশন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় আট মাস অপেক্ষার পর কোনো প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হলে তার কারণ স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। তারা দ্রুত নিয়োগপত্র প্রকাশ এবং ১ অক্টোবর থেকে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে।
নিয়োগপত্র নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এ ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে পরবর্তীতে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
সরকারের এই বক্তব্যের মধ্যেই নিয়োগপত্রের দাবিতে রোববার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংবাদ সম্মেলন করে তারা শাহবাগে অবস্থানের ঘোষণা দেন। সেখানে তারা ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র প্রকাশ এবং ১ অক্টোবর থেকে নিজ নিজ জেলায় যোগদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
রোববার বেলা ১১টার পর মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন তারা। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা কর্মসূচি পালন করছেন। শনিবার সুনামগঞ্জে একদল প্রার্থী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।
নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ভেরিফিকেশন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ফলে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কিন্তু এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন