ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ও ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইডিয়াল কলেজের সামনের সড়কে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় এবং দুই রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের কারণে সায়েন্সল্যাব মোড়সহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রমনা থানার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শওকত আলী জানান, প্রায় ২০০ জন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আইডিয়াল কলেজের দিকে এগিয়ে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে ঠিক কী কারণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব জানান, সায়েন্সল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সেখানে অবস্থান করছে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়েছেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পরে আরও সতর্ক অবস্থান নেয়। সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে মিরপুর থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এতে ওই সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ ও পরিবহনযাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে দুই প্রতিষ্ঠানসহ সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ মেটাতে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর নিউমার্কেট থানার মধ্যস্থতায় একটি ‘শান্তি চুক্তি’ হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ভবিষ্যতে সংঘর্ষে না জড়ানোর বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অঙ্গীকার করেছিলেন।
তবে ওই চুক্তির এক মাসের মধ্যেই, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর, ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তী সময়েও সায়েন্সল্যাব এলাকায় দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নির্ভরযোগ্য কোনো সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কারা প্রথম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার পর সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন