নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের অভিযানের জন্য পুলিশ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। যৌথ বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া গেলে আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের বাহিনীর মুখপাত্র এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চাঁদাবাজি বন্ধে মার্চ মাস থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের ওই সভা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করার কথা বলা হয়েছে।
আইজিপি মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং পুলিশ তাদের তৎপরতা বাড়াচ্ছে। প্রয়োজন হলে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে বলেও তিনি জানান।
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, যৌথ বাহিনীর কোনো অভিযান পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ এ মুহূর্তে পুলিশের পক্ষ থেকে যেকোনো অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতির কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট কোনো যৌথ অভিযানের সময়সূচি বা স্থান ঘোষণা করা হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান জোরদারের নির্দেশনা এবং প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে মাঠপর্যায়ে কী ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে, তা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে পুলিশ যেকোনো অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে এবং নির্দেশনা পাওয়া সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন