পাবনার সাঁথিয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘাকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
এসআরবি জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গামাণু গ্রামের বাসিন্দা ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে উপজেলার মিয়াপুর মিনার পাড় এলাকার একটি পুকুরে তার রক্তাক্ত মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের এক স্বজন সাঁথিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে চারজন সন্দেহভাজনের নাম আসে। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুজন হত্যাকাণ্ডে চারজনের সম্পৃক্ততার কথা জানান।
তদন্তে মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘার নাম আসে। এসআরবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এরপর এসআরবি-১১ ও ১২-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রেজাউল করিম প্রামাণিককে গ্রেফতার করে।
'এস আর বি' এর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল নিজেকে নিষিদ্ধ ‘সর্বহারা’ গ্রুপের নেতা বলে দাবি করেছেন। এসআরবির দাবি, আব্দুল আজিজের কাছে টাকা থাকার ধারণা থেকে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ২৫ হাজার টাকার জন্য চারজন মিলে হত্যার পরিকল্পনা করার কথা উঠে এসেছে বলে জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রেজাউল করিম প্রামাণিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন