আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের গুলিস্তান সীমান্ত এলাকায় আফগান তালেবান যোদ্ধারা পাকিস্তানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে কয়েকজন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি) বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, আফগান তালেবানের সদস্যরা গুলিস্তান সেক্টর দিয়ে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। এতে কয়েকজন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হন বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর গুলিস্তান সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি চলতে থাকে। মধ্যরাতের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের রেডিও পাকিস্তানও জানিয়েছে, আফগান দিক থেকে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে প্রবেশ ও হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে এবং পাল্টা পদক্ষেপে একাধিক আফগান তালেবান সদস্য নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিহত তালেবান সদস্যের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। হামলার পরিকল্পনা বা লক্ষ্য সম্পর্কেও বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানালেও পরিকল্পিত হামলার সুনির্দিষ্ট ধরন ব্যাখ্যা করেনি।
গুলিস্তান সীমান্তের এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে।
পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে কাবুলের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তবে আফগান তালেবান সরকার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করার বিরোধিতা করেছে।
গুলিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের আগে বৃহস্পতিবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানায়। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, এসব স্থানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত বা সংরক্ষিত ড্রোনের ঘাঁটি ছিল।
পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে ওই অভিযান চালানো হয়। পাকিস্তান বলেছে, হামলাগুলো ছিল নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যকেন্দ্রিক।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বরও পাকিস্তান আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কথিত আস্তানায় বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি, ওই অভিযানে ২৮ জনের বেশি সশস্ত্র সদস্য নিহত হন। তবে এ ধরনের হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
গুলিস্তান সীমান্তে তালেবান যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশ ও নিহত হওয়ার বিষয়ে আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে Reuters জানিয়েছে। ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের দেওয়া হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা হামলার চেষ্টা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন