ডেস্ক রিপোর্টঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন মির্জাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বিশেষ মেডিকেল ফ্লাইটে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে বিশেষ মেডিকেল ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করে। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের সঙ্গে একজন অ্যাটেনডেন্ট এবং চিকিৎসক দলের সদস্যরা রয়েছেন। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর তাকে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হবে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। অনুশীলনের অংশ হিসেবে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ওই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইজন সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তরের কথা জানানো হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে আহত কর্মকর্তা হিসেবে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন মির্জার পরিচয় জানা যায়। দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন মির্জাকে দেখতে ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
হাসপাতালে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে আহত কর্মকর্তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন।
সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে বিশেষ মেডিকেল ফ্লাইটে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটে চিকিৎসক দলের সদস্যরা থাকায় যাত্রাপথেও তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা দেওয়ার কথা রয়েছে।
হাটহাজারীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের ওই দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের পরিচয় হিসেবে তাসনিম রিফাত ও আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাসনিম রিফাত রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের এবং আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে তাদের পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন