প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
◷ 00:00:00

অনলাইন বেটিং নিষিদ্ধ, বড় আর্থিক ধাক্কার মুখে ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলো।

অনলাইন বেটিং নিষিদ্ধের পর আর্থিক চাপে ব্রাজিলের ফুটবল ক্লাব, প্রতীকী ছবি

ক্রীড়া ডেস্কঃ  অনলাইন বেটিং বা জুয়া নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলো। দেশটির ফুটবল অঙ্গনে বেটিং কোম্পানিগুলোর ব্যাপক স্পনসরশিপ থাকায় সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পর ক্লাবগুলোর কোটি কোটি ডলারের চুক্তি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল লিগের ২০টি দলের মধ্যে ১৪টির প্রধান স্পনসরই বেটিং কোম্পানি। ২০২৫ সালে এসব স্পনসরশিপ থেকে ক্লাবগুলোর বাণিজ্যিক আয়ের প্রায় ৩৪ শতাংশ এসেছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গ্যালাপাগোস ক্যাপিটালের হিসাবে, এর মোট মূল্য প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার।

তবে মোট আয়ের হিসাবে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান Convocados-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে ব্রাজিলের সিরি-এ ক্লাবগুলো বেটিং কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ১০৩ কোটি ব্রাজিলিয়ান রিয়াল স্পনসরশিপ পেয়েছে। এই অর্থ ক্লাবগুলোর মোট ১ হাজার ৪৩০ কোটি রিয়াল আয়ের প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ বেটিং খাত ক্লাবগুলোর মোট আয়ের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট অংশ হলেও বাণিজ্যিক ও মার্কেটিং আয়ের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ২৫ সেপ্টেম্বর অনলাইন বেটিংয়ের বিরুদ্ধে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা বা মেডিডা প্রোভিসোরিয়া (MP) জারি করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। এতে নির্দিষ্ট অডসের অনলাইন বেটিং এবং অনলাইন ক্যাসিনোর কার্যক্রম, অফার ও বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা দেওয়াও বন্ধ করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেটিং কোম্পানিগুলোকে ৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপের প্রচারসামগ্রী সরিয়ে নিতে হবে। ৬ অক্টোবর থেকে সংশ্লিষ্ট বেটিং ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে ব্রাজিলের ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—চলমান স্পনসরশিপ চুক্তিগুলোর কী হবে এবং বেটিং কোম্পানির অর্থের বিকল্প উৎস তারা কীভাবে খুঁজে বের করবে।

শুধু স্পনসরশিপের পরিমাণ বিবেচনা করলেই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়। বর্তমান চুক্তিগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে অন্যতম বড় চুক্তি রয়েছে ফ্লামেঙ্গোর সঙ্গে। ক্লাবটির বেটানো-সংক্রান্ত বার্ষিক স্পনসরশিপের মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে এএফপি।

এদিকে ব্রাজিলের বিভিন্ন ক্লাব এরই মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের আর্থিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ক্লাবগুলোর আশঙ্কা, হঠাৎ করে বেটিং কোম্পানির স্পনসরশিপ বন্ধ হয়ে গেলে তাদের বাজেট, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় চাপ তৈরি হতে পারে।

সরকারও ক্লাবগুলোর ওপর প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করছে। ব্রাজিলের অর্থমন্ত্রী দারিও দুরিগান জানিয়েছেন, ক্লাব ও ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্তটির প্রকৃত আর্থিক প্রভাব বোঝার চেষ্টা করা হবে। সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তবে বেটিং কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকেও সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিল্প সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে।

ব্রাজিলের ফুটবলে বেটিং কোম্পানির প্রবেশ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে ক্লাবগুলোর জার্সি, স্টেডিয়াম, টেলিভিশন সম্প্রচার এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে এসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত শুধু বেটিং ব্যবসাকেই নয়, দেশটির ফুটবলের বাণিজ্যিক কাঠামোকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বেটিং কোম্পানির জায়গায় ক্লাবগুলো কত দ্রুত নতুন স্পনসর খুঁজে পায় এবং চলমান চুক্তিগুলোর আর্থিক দায় কীভাবে সামাল দেয়। একই সঙ্গে ব্রাজিলের কংগ্রেস অস্থায়ী ব্যবস্থাটিকে কীভাবে বিবেচনা করে, সেটিও দেশটির ফুটবল ও বেটিং খাতের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই অস্থায়ী ব্যবস্থা কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক