ডেস্ক রিপোর্টঃ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই সেনাপ্রধানের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, সম্পদের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কার্যক্রম তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজিজ আহমেদের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে বাস্তব তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র মিলিয়ে দেখা হবে। তার নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য, আয় ও সম্পদ অর্জনের উৎসসহ বিভিন্ন বিষয় অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে।
অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সম্পদ বিবরণীতে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুদক কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত এবং অনুসন্ধানে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
দুদকের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের সময় কোনো অসঙ্গতি, তথ্য গোপন বা অবৈধ উৎস থেকে সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কমিশন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এর আগে জেনারেল (অব.) আজিজ আহেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে দুদক অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছিল।
বর্তমান সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী পৃথকভাবে যাচাইয়ের কার্যক্রম আরও এগোবে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই দুদকের পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
তবে সম্পদ বিবরণী যাচাই বা অনুসন্ধান শুরু হওয়ার অর্থ কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী দুদক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন