আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে দেশটির রাজধানী জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত থেকে বিমানবন্দরের আকাশসীমায় আগ্নেয় ছাই শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় সোয়েকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দরের ২০৯টি ফ্লাইট এবং ২২ হাজার ৭৯৮ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় বিমানবন্দর বন্ধের সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগ্নেয় ছাইয়ের ঝুঁকির কারণে রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখা হয়।
আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিটি জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ছাই পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং জাকার্তা, বানতেন ও পশ্চিম জাভাসহ আশপাশের অঞ্চলের আকাশপথে প্রভাব ফেলে।
শুধু সোয়েকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দরই নয়, আগ্নেয় ছাইয়ের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব অথবা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রভাবিত আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর, হংকং, সিডনি, সিউল, দোহা, আমস্টারডাম ও কুয়ালালামপুরের রুটও রয়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট সূচি সমন্বয় করেছে এবং যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভলকানিক অ্যাশ বা আগ্নেয় ছাই বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি বিমানের ইঞ্জিন, নেভিগেশন ও দৃশ্যমানতায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে যাত্রী ও বিমান নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাত পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ধাপে ধাপে বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন