প্রগতি বার্তা ডেস্ক
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে এক বৃদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তদের হামলায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আরিফুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলতাফ হোসেন ঢাকায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের মালিবাগ জোনে উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকার মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পাশাপাশি বড়দেশী এলাকায় নিজের প্রায় পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি ছোট কারখানা বা মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে কারখানার আশপাশে কয়েকজন যুবক এক বৃদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে মারধর করছিলেন। এ সময় আলতাফ হোসেন ঘটনাটির প্রতিবাদ করতে এগিয়ে যান। এরপর ওই যুবকদের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে নিজের কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
এরপর হামলাকারীরা আরও লোকজন নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় কারখানার বিভিন্ন মেশিন ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। পরে আলতাফ হোসেনকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামও হামলার শিকার হন। হামলাকারীদের মারধরে বাবা ও ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদকে হামলার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, একটি প্রাইভেটকার পার্কিং বা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরেও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে।
নিহত আলতাফ হোসেনের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানা এলাকার সাধুপাড়া গ্রামে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন