আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি।
মার্কিন বাহিনীর এই নৌ তৎপরতার ফলে ইতোমধ্যে অন্তত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জাহাজে সরাসরি তল্লাশি চালানো এবং কিছু জাহাজকে অচল করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।
কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও তা এখনো জটিল অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা এখনো ‘আংশিক’ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত বড় ধরনের সামরিক অভিযান না বাড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপ ও কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন আক্রমণ এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে করে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি এবং তাকে আলোচনায় বাধ্য করার একটি কৌশল। তবে একইসঙ্গে এটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনা কমেনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ