টাইফুন 'ডলফিন' বন্যা-ভূমিধস মোকাবিলায় ৩ প্রদেশে ৮ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ।

টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় চীনের হ্যনান, হুবেই ও আনহুই প্রদেশে ৮ কোটি ইউয়ান জরুরি তহবিল বরাদ্দ।

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় তিন প্রদেশের জন্য ৮ কোটি ইউয়ান (প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার) জরুরি তহবিল বরাদ্দ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় ও জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ বরাদ্দের ঘোষণা দেয়। সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, হ্যনান, হুবেই ও আনহুই প্রদেশে জরুরি উদ্ধার ও দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

বরাদ্দ করা অর্থের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, দুর্যোগপ্রবণ এলাকা নিরাপদ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায়ও অর্থটি ব্যবহার করা হবে।

টাইফুন ডলফিন গত রোববার চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থলভাগে আঘাত হানে। পরে স্থলভাগের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় ঝড়টি দুর্বল হয়ে গেলেও এর সঙ্গে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প ও বৃষ্টিবাহী মেঘ দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঝেজিয়াংয়ের পাশাপাশি হুবেই, হ্যনানসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

টাইফুন ডলফিন চীনে আঘাত হানার আগে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। স্থলভাগে প্রবেশের পর ঝড়টি দুর্বল হলেও এর অবশিষ্ট অংশ দেশের অভ্যন্তরে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস টেনে নিয়ে যাওয়ায় বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ে।

হুবেই প্রদেশে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়। রয়টার্স জানায়, ১১ আগস্ট পর্যন্ত হুবেইয়ের শিয়াংইয়াং শহরের ৩৫টি জলাধারে পানি বন্যা নিয়ন্ত্রণসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং কর্তৃপক্ষ প্রায় ৯ হাজার ৭০৫ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। প্রদেশটির বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করা হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ২৬টি মহাসড়ক ও নৌপথ নির্মাণ প্রকল্প সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

ডলফিনের প্রভাবে হ্যনান প্রদেশেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। ১২ আগস্ট রয়টার্স জানায়, হ্যনানের উগাং শহরে এক দিনে ২০৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে হুবেইয়ের শিয়াংইয়াংয়ে ১৬৯ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়—দুই এলাকাতেই আগস্ট মাসের এক দিনের বৃষ্টিপাতের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে যায়।

এরপরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা অব্যাহত ছিল। ১৪ আগস্ট হ্যনানের ঝৌকৌ শহরে একটি নদীর তীর ভেঙে যাওয়ার পর ৭৮১ জনকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সময়ে চীনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ডলফিনের অবশিষ্ট অংশ, ঠান্ডা বায়ু ও মৌসুমি বায়ুর সম্মিলিত প্রভাবে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

ডলফিনের প্রভাবে সৃষ্ট অতিবৃষ্টিতে ঝেজিয়াং প্রদেশের চাংশিং কাউন্টিতে শুক্রবার একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে একটি বাড়ি ধসে একজনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন নিখোঁজ ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আকস্মিক ভারী বৃষ্টির পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার কারণে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

চীনের বিভিন্ন এলাকায় ডলফিনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ডও হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অন্তত ১৩টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে এক দিনের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙেছে।

ডলফিনের অবশিষ্ট অংশের প্রভাব চীনের রাজধানী বেইজিং পর্যন্ত পৌঁছায়। সেখানে ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কর্তৃপক্ষকে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়।

 বেইজিংয়ে ২৫০টি বাস রুটের চলাচল স্থগিত ঘোষনা করা হয়, প্রায় ১৫০টি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ এবং ১০টি মেট্রো লাইনে গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজধানীর ছাংপিং এলাকায় এক ঘণ্টায় ৯০ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

এর আগে ১১ আগস্ট হুবেইয়ে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। হ্যনানের কিছু এলাকায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কাও জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা।

এর আগে ১১ আগস্ট চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন ঝেজিয়াং প্রদেশে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে ২০ কোটি ইউয়ান (প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করেছিল। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা, স্কুল ও হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দ্রুত পুনরুদ্ধারে ওই অর্থ ব্যবহারের কথা জানানো হয়।

এর ধারাবাহিকতায় হ্যনান, হুবেই ও আনহুইয়ের জন্য নতুন করে ৮ কোটি ইউয়ান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এতে বোঝা যাচ্ছে, ঝড়টি দুর্বল হয়ে গেলেও এর কারণে সৃষ্ট অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় চীনা কর্তৃপক্ষ এখনো ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক