জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমকে ফিরিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সামান্য আশার আলো দেখিয়েছিলেন জশ হ্যাজলউড। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৪.২ ওভারেই ৫৭ রান পূর্ণ করে বাংলাদেশ। মুমিনুল ৩০ ও সাদমান ২৫ রানে অপরাজিত থেকে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই জয়ের ভিত গড়ে দেয় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে সফরকারীরা। হাসান একাই নেন ৬ উইকেট, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
জবাবে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম করেন ১০১ রান, আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৮৪ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রান। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে অস্ট্রেলিয়ার ওপর ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয়।
তানজিদের শতকটিও ছিল বিশেষ তাৎপর্যের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে শতক করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লিডের চাপে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ক্যামেরন গ্রিনের দুর্দান্ত ১০৪ রানের লড়াকু ইনিংস স্বাগতিকদের কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়। স্টিভ স্মিথ করেন ৪৪ রান। কিন্তু অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে না পারায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৮৪ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার শেষ ছয় উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৫ উইকেট শিকার করেন। হাসান মাহমুদ নেন আরও ৩ উইকেট। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট—ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার পান।
অন্যদিকে মিরাজ ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ৬৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন।
বাংলাদেশের এই জয় এসেছে দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে ফিরে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে কোনো টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে ডারউইনের এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্জন হয়ে থাকল।
বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের নিজেদের মাটিতে ৯ উইকেটের জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অগ্রগতিরও বড় প্রমাণ। ম্যাচজুড়ে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই বাংলাদেশ স্বাগতিকদের চেয়ে এগিয়ে ছিল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪
বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ৫৭/১
ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী
জয়ের লক্ষ্য: ৫৭ রান
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: হাসান মাহমুদ
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ: তানজিদ হাসান—১০১
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ: ক্যামেরন গ্রিন—১০৪
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে: মুমিনুল হক ৩০*, সাদমান ইসলাম ২৫*
সিরিজ: বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়—বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। চার দিনের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টাইগাররা প্রমাণ করেছে, বিদেশের মাটিতেও বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য এখন বাংলাদেশের আছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন