আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী তিন প্রদেশে একযোগে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। থাই কর্তৃপক্ষের হিসাবে মোট ৫১টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান কমান্ড (ISOC) জানিয়েছে, শনিবার রাত প্রায় ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিতভাবে এসব হামলা চালানো হয়। হামলাগুলোতে সরকারি স্থাপনা, যানবাহন, বিদ্যুতের খুঁটি, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ও একটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত বা পুড়ে গেছে।
হামলার বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে ন্যারাথিওয়াত প্রদেশে। সেখানে স্থানীয় সরকারি কার্যালয়, একটি 7-Eleven দোকান ও একটি চুরি করা গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়া এবং বিদ্যুতের খুঁটি ও টেলিযোগাযোগ স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এ ছাড়া প্রতিবেশী ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। থাই কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
ন্যারাথিওয়াতে একটি সড়কের পাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই নারী ও এক তরুণ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
তবে হামলার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। থাই সামরিক কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাবে অন্তত দুইজন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল; পরে স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে তিনজন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
হামলার পর ন্যারাথিওয়াত প্রদেশে রাতের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। রোববার সকালে কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত শনিবার রাতের সমন্বিত হামলার দায় কোনো সংগঠন প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। থাই কর্তৃপক্ষ হামলার উদ্দেশ্যকে অস্থিরতা সৃষ্টি হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের পাত্তানি, ইয়ালা ও ন্যারাথিওয়াত প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত চলে আসছে। ২০০৪ সাল থেকে এ সংঘাতে ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এই অঞ্চলের সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য থাইল্যান্ড নতুন উদ্যোগের কথা বললেও সহিংসতার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন