ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপ্রচলিত ও শক্তিশালী মাদক ‘কুশ’ চোরাচালানের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যে বিমানবন্দরে কুশের পাঁচটি চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসব ঘটনায় মোট ১৭ কেজি ৫২০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন পাঁচ ভারতীয় নাগরিক।
ডিএনসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুই নাগরিক আবদুল রহমান (৪৬) ও মোহাম্মদ ইকবাল আনসারিকে ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেন ডিএনসির কর্মকর্তারা। দুই যাত্রী সেখানে পৌঁছালে তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। এ সময় কাপড়ের নিচে লুকানো অবস্থায় ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশ পাওয়া যায়। তাদের কাছ থেকে দুটি ভারতীয় পাসপোর্ট, ৫০০ মার্কিন ডলার, ১০ হাজার ভারতীয় রুপি ও তিনটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতার শুরু হয় ১৮ আগস্ট। ওই দিন বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আকাশ দুবে ও আকাশ পাণ্ডে নামে দুই নাগরিক ট্রলি ও পাসপোর্টের ফটোকপি রেখে পালিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।
এরপর ২২ আগস্ট ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে আসা ভারতের কর্ণাটকের বাসিন্দা হুসাইন আবদুল কাদের শেখকে ৩ কেজি কুশসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার ট্রলি ব্যাগে কাপড়ের নিচে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মাদকটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাংলাদেশে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন বলে ডিএনসি সূত্রে জানা যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর দুই দিন পর, ২৪ আগস্ট, শাহজালাল বিমানবন্দরে আরও ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুই নাগরিক সানোয়ার আলী ও ইমতিয়াজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। তাদের কাছ থেকে তিন লিটার মদ ও ২৪টি ভারতীয় শাড়িও জব্দ করা হয়।
ডিএনসির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় একই ধরনের রুট ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ঢাকায় এসে বিমানবন্দরের আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় এসব চালানের কয়েকটি ধরা পড়ে।
কুশকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিপজ্জনক সিন্থেটিক মাদক হিসেবে উল্লেখ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চালান আটকের ঘটনায় দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে এ ধরনের মাদক চোরাচালানের নতুন প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও চোরাচালানের নেপথ্যে থাকা চক্র সম্পর্কে তথ্য বের করতে তদন্ত চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন