প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

অক্টোবরে গাজায় আসছে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী।

গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী বা International Stabilization Force (ISF) মোতায়েনের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে গাজায় বাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উগান্ডা এরই মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের পাশাপাশি এর দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়েও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।

জাতিসংঘের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিষদ ব্রিফিংয়েও গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ, গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, বাহিনীটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একক কমান্ড কাঠামোর অধীনে কাজ করবে এবং মিসর ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করবে। এর দায়িত্বের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, সামরিক ও সশস্ত্র অবকাঠামো নিষ্ক্রিয়করণে সহায়তা, ফিলিস্তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণ, মানবিক কার্যক্রমে নিরাপত্তা দেওয়া এবং বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয় রয়েছে।

এই বাহিনীর আকার প্রায় ২০ হাজার সদস্য করার লক্ষ্য রয়েছে। শুরুতে আলবেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, কসোভো ও মরক্কো বাহিনীতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরে উগান্ডাও আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়। উগান্ডার পার্লামেন্ট ৬ আগস্ট গাজায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব অনুমোদন করে।

উগান্ডার প্রায় ১ হাজার ২০০ সেনা গাজার দক্ষিণাঞ্চলের রাফাহ এলাকায় নিরাপত্তা দায়িত্বে সহায়তা করতে পারে। উগান্ডার সামরিক কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ইসরায়েল সফর করে সম্ভাব্য মোতায়েন ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উগান্ডার সঙ্গে মোতায়েনের বিস্তারিত কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

মরক্কোও বাহিনীতে সর্বোচ্চ ৫০০ সদস্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কসোভো, কাজাখস্তান ও আলবেনিয়াও সদস্য দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া সর্বোচ্চ ৮ হাজার সদস্য দেওয়ার বিষয়ে আগে আলোচনা করলেও তাদের অংশগ্রহণ বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে ২০ হাজার সদস্যের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে।

বুরুন্ডিও এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করে সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে বুরুন্ডির অংশগ্রহণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি বলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের নথি বলছে, বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাহিনীর জন্য একটি মিশন সাপোর্ট সাইট নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সদস্য দেশগুলোর মাধ্যমে আগেই সম্ভাব্য মোতায়েন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে বাহিনী কত দ্রুত এবং কোন এলাকায় প্রবেশ করবে, তা গাজার মাটির পরিস্থিতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হবে।

তবে আন্তর্জাতিক বাহিনীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্ন। গাজা পরিকল্পনায় এই দুই বিষয়কে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘও জানিয়েছে, পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন—সবগুলো ধাপ এগিয়ে নিতে হবে।

বর্তমানে যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত নয়। জাতিসংঘের ২৬ আগস্টের ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি এখনও ভঙ্গুর। ফলে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের আগে মাটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। উগান্ডার ১ হাজার ২০০ সেনার প্রস্তুতি, নতুন দেশগুলোর আগ্রহ এবং অক্টোবর থেকে সম্ভাব্য মোতায়েনের পরিকল্পনা এই উদ্যোগকে নতুন গতি দিয়েছে। তবে ২০ হাজার সদস্যের বাহিনী গঠন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার নিরাপত্তা কাঠামো চূড়ান্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো সমাধানের অপেক্ষায়। ফলে অক্টোবরের সম্ভাব্য মোতায়েন পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক