এ অবস্থায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারের কাছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে পিডিবি।
পিডিবির ২৩ আগস্ট বিদ্যুৎ সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
তবে এ লক্ষ্যে এক মাসে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টন ফার্নেস অয়েল প্রয়োজন হবে।
প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১০০ টাকা হিসাবে ওই পরিমাণ তেল কিনতে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে পিডিবি।
পিডিবির চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের ক্ষেত্রেও সংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ট্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার টন ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে।
ফলে পিডিবি চাইলেও একসঙ্গে প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ খাতের জন্য চলতি বছরে আরও ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।
তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানো। বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ সংকটের কারণে শিল্প খাতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
পিডিবি মনে করছে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে এবং গ্যাসের সীমিত সরবরাহ শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে।
তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি সংকট নয়, অর্থনৈতিক সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পিডিবির কাছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বকেয়া পরিশোধে চাপের মধ্যেই নতুন করে ফার্নেস অয়েল কেনার জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বেসরকারি খাতে ৫৩টি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।
এসব কেন্দ্র থেকে দৈনিক ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে জ্বালানি ও অর্থের সংকটের কারণে সব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে চাহিদা মেটাতে গ্যাস, কয়লা ও আমদানি করা বিদ্যুতের পাশাপাশি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে তেলভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়াতে হলে একদিকে বিপুল পরিমাণ ফার্নেস অয়েল সংগ্রহ করতে হবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ ও নতুন জ্বালানি কেনার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ কারণে পিডিবি জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে। সরকারের অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন