আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রগতি বার্তা
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৩৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৩০১ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের তথ্যের বরাত দিয়ে এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে চলমান সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী নিহত ও আহত মিলিয়ে মোট হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৪৭ জনে। গত এক সপ্তাহেই নতুন করে ১১ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের বরাতে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে।
হতাহতের সর্বশেষ হিসাব প্রকাশের একদিন আগে, শনিবার (১৫ আগস্ট) দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আনসার গ্রামে একটি বাড়িতে চালানো হামলায় সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু থাকার কথাও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া দেইর আল-জাহরানি এলাকায় আরেকটি হামলায় চারজন নিহত হন। দুই হামলায় মোট অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (AP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ জুন ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শনিবারের হামলাগুলো ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, হিজবুল্লাহর একটি হামলায় তাদের তিন সেনা আহত হওয়ার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়।
ইসরাইল আরও দাবি করেছে, শনিবারের অভিযানে হিজবুল্লাহর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির কথা জানানো হয়েছে।
ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে জুনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দক্ষিণ লেবাননে সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছায়। ওই চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
তবে বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেছে। সম্প্রতি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের আগে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সংঘাতের কারণে বেসামরিক অবকাঠামো ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, অবকাঠামো, কৃষিজমি ও চিকিৎসা স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও সংঘাতের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাসেবার ওপর হামলার বিষয়ে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, সংঘাতের প্রথম কয়েক মাসে জরুরি চিকিৎসাসেবায় বহু হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
লেবাননে সর্বশেষ হতাহতের সংখ্যা প্রকাশের পর দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জুনের যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী কাঠামোগত সমঝোতার মধ্যেও দক্ষিণাঞ্চলে নতুন হামলা অব্যাহত থাকায় সংঘাত আবারও বড় আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ২ মার্চ থেকে চলমান এই পর্যায়ের সংঘাতে ৪ হাজার ৩৪৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩০১ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন