আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে থাকা মোট রিপার ড্রোনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এসব ড্রোন হারানোর আর্থিক মূল্য ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
১৩ আগস্ট প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের সময় অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হারানো সব ড্রোনই ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে—এমন নয়। মার্কিন এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, কিছু রিপার অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বিধ্বস্ত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুমানিক ১৮৫টি এমকিউ-৯ রিপার ছিল। এর মধ্যে ১৬৫টি মার্কিন বিমানবাহিনী এবং ২০টি মেরিন কর্পসের অধীনে ছিল। ফলে অন্তত ৪৫টি ড্রোন হারানোর অর্থ দাঁড়ায়—যুদ্ধের সময় মার্কিন রিপার বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ আর ব্যবহারের জন্য নেই।
এর আগে মে মাসে মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেভিড ট্যাবর সিনেটের এক শুনানিতে জানিয়েছিলেন, রিপার বহরের সংখ্যা প্রায় ১৩৫টিতে নেমে এসেছে। তিনি এসব ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বহর পুনরায় পূরণ করার উপায় খোঁজা হচ্ছে বলে জানান।
এমকিউ-৯ রিপারের দাম এর ব্যবহৃত সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। সেই হিসাবে ৪৫টি ড্রোনের সম্ভাব্য মূল্য ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই হিসাব মূলত হারানো বিমানগুলোর মূল্য; এগুলো পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিস্থাপনের অতিরিক্ত ব্যয় এতে ধরা হয়নি।
ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির আশপাশে নজরদারি ও অন্যান্য সামরিক মিশনে রিপার ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু রিপার তুলনামূলক ধীরগতিতে এবং অনেক সময় কম উচ্চতায় উড়ে বলে প্রতিপক্ষের জন্য এগুলো শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।
৪৫টি রিপার হারানোর তথ্যকে সরাসরি ৪৫টি ড্রোন ইরান গুলি করে ভূপাতিত করেছে—এভাবে দেখার সুযোগ নেই। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কিছু ড্রোন যোগাযোগ-সংযোগের সমস্যার কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে মোট ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে যুদ্ধজনিত ধ্বংসের পাশাপাশি দুর্ঘটনাও রয়েছে।
রিপার বহরের এত বড় অংশ হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতি নয়, সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনেরও একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে একই ধরনের ড্রোন দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০০৭ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পর এমকিউ-৯ রিপার দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও দূরপাল্লার সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মনুষ্যবিহীন বিমান হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন