ডেস্ক রিপোর্টঃ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া অর্থের শতভাগ ব্যয় না করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্নের পর অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম। সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ প্রশাসনিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলায় বাস্তবায়িত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। প্রকল্পের নির্ধারিত কাজের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় ব্যয় সম্পন্ন করার পর যে অর্থ অব্যয়িত থাকে, তা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসারে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অর্থ সাশ্রয়ের পরও প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের মানহানি বা ব্যত্যয় ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় করার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগকে সুশাসন ও আর্থিক শৃঙ্খলার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. ইব্রাহীম বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি টাকাও ব্যয় করার সুযোগ নেই। নির্ধারিত কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর যে অর্থ উদ্বৃত্ত ছিল, তা সরকারি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ অন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। এতে যেমন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে, তেমনি সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে একই অর্থে আরও বেশি জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব। গৌরনদীর ইউএনওর এই পদক্ষেপ সেই বার্তাই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি দপ্তর ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 মন্তব্যসমূহ