রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, শেওড়াপাড়া ও মালিবাগের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজিই ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন, বরবটি, করলা, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, কচুর লতি, শিমসহ বেশিরভাগ সবজির কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে পটল, আলু ও পেঁপের মতো কয়েকটি সবজির দাম তুলনামূলক কম রয়েছে।
বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কাঁচামরিচের দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে মরিচের সরবরাহ কমেছে। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারেও পড়েছে।
এদিকে চালের বাজারেও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পোলাও বা সুগন্ধি চালের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে যে চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে সেটি ১৯০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরবরাহ সংকট, উৎপাদন কম হওয়া এবং রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তবে মোটা ও মাঝারি মানের চালের দামে তুলনামূলক কম পরিবর্তন দেখা গেছে।
শুধু চাল নয়, প্রাণিজ খাদ্যপণ্যের বাজারেও বেড়েছে দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের ডজনপ্রতি দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে রুই, কাতল, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলছেন, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসারের ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, উৎপাদন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুমি কারণে বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মূল্য পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম। তাই বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার এবং কার্যকর বাজার তদারকির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন