ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার সক্রিয় সিমকার্ড, ভিওআইপি (VoIP) সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত ডিভাইসসহ তিন চীনা নাগরিক এবং এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গ্রেপ্তাররা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, অনলাইন প্রতারণা এবং জুয়াসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ডিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভবনের দুটি ফ্লোর থেকে বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তি সরঞ্জাম, সক্রিয় সিমকার্ড এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চীনের নাগরিক লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক ঝর্না চাকমা জিয়ানাকেও (২৭) আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঝর্না চাকমা পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর একটি অংশ চীনা নাগরিকদের কাছে সাবলেট দিয়েছিলেন।
অভিযানের সময় ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, প্রায় ১০ হাজার সক্রিয় সিমকার্ড, ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া সিমগুলোর মধ্যে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম রয়েছে।
রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভিওআইপি কল আদান-প্রদান এবং অনলাইন প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে চাকরির প্রলোভন, বাড়িতে বসে আয়ের সুযোগ কিংবা আকর্ষণীয় অফারের নামে এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতারক চক্রটি বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক সিম পরিচালনা করত। এর ফলে তাদের কার্যক্রম সহজে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত। তদন্তকারীদের ধারণা, অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, এত বিপুলসংখ্যক সক্রিয় সিম কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এ চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার পেছনের নেটওয়ার্ক উন্মোচনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ