ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রবাসীর স্বজনের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ। এ ঘটনায় রুবেল নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মামলার অন্য আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মো. সুমনের বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়াপ্রবাসী। পরিবারের ব্যবহারের জন্য এবং বোনের বিয়ের উদ্দেশ্যে গত ২৮ আগস্ট মালয়েশিয়া থেকে তিনি ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বাংলাদেশে পাঠান।
সুমন ও তাঁর বন্ধু রোহান চৌধুরী ওইদিন রাত ৮টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাউসারের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণালংকারগুলো গ্রহণ করেন। দুজনের কাছে ১০০ গ্রাম করে স্বর্ণ ছিল। পরে তাঁরা একটি ভাড়া করা হায়েস গাড়িতে করে বিমানবন্দর এলাকা থেকে বের হন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে বিমানবন্দর থানার আওতাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে পৌঁছালে কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় তাঁদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলে এবং তাঁদের কাছে বোমা রয়েছে—এমন ভয় দেখিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি বদলে যায়। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, একজন পথচারী তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং আরেকজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সুমনের কাছে থাকা ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা এবং রোহান চৌধুরীর কাছে থাকা ১০০ গ্রাম স্বর্ণের মূল্যও প্রায় ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ছিনিয়ে নেওয়া ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ২৯ আগস্ট মো. সুমন বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় আব্দুর রউফকে এক নম্বর, রিপনকে দুই নম্বর, আল-আমিন শান্তকে তিন নম্বর এবং রুবেলকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার পর সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। শনিবার রাতে এবং রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগে ছিনিয়ে নেওয়া ২০০ গ্রামের মধ্যে ১০০ গ্রাম উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানিয়েছেন, মামলার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তদন্তে তা যাচাই করা হচ্ছে এবং অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন