চীনের নতুন উড়ন্ত যান: আকাশপথে যাতায়াতে আসছে বড় পরিবর্তন।

চীনের তৈরি নতুন উড়ন্ত যান বা বৈদ্যুতিক eVTOL উড্ডয়নযান

 প্রযুক্তি ডেস্কঃ চীনে বৈদ্যুতিক উড্ডয়নযান বা eVTOL প্রযুক্তির উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে এমন যান তৈরি ও উড়িয়েছে, যেগুলো রানওয়ে ছাড়াই উল্লম্বভাবে ওঠানামা করতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে শহরের স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে ‘উড়ন্ত গাড়ি’ বা এয়ার ট্যাক্সি ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি চীনের উড়ন্ত যান শিল্প নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির নিয়ন্ত্রকেরা যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে এসব বৈদ্যুতিক উড্ডয়নযানের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সতর্কভাবে এগোচ্ছেন। চীনের উদীয়মান ‘লো-অল্টিটিউড ইকোনমি’র অংশ হিসেবে এ খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উন্নয়নও বাড়ছে।

eVTOL-এর পূর্ণরূপ হলো Electric Vertical Take-Off and Landing। সাধারণ বিমানের মতো দীর্ঘ রানওয়ে প্রয়োজন না হয়ে বিশেষ মোটর ও রোটরের সাহায্যে এসব যান প্রায় উল্লম্বভাবে ওপরে উঠতে ও নিচে নামতে পারে।

চীনের উহানে পরীক্ষিত একটি UFO-আকৃতির eVTOL-এর ক্ষেত্রে উল্লম্বভাবে ওঠা, কিছু সময় আকাশে স্থির থাকা, পাশের দিকে চলা এবং পরে নিরাপদে অবতরণের সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছিল।

চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে Xpeng-এর উড়ন্ত যান ইউনিট Aridge-ও রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যাত্রীবাহী eVTOL-এর এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেশনের জন্য প্রথম দফার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করে। তালিকায় Aridge, EHang, Volant ও AutoFlight-এর নাম ছিল।

Aridge-এর ‘Land Aircraft Carrier’ একটি মডুলার উড়ন্ত যান ব্যবস্থা। এতে একটি স্থলযান এবং তার ভেতরে বহনযোগ্য দুই আসনের একটি উড্ডয়নযান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে এর ব্যাপক উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এদিকে Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Xpeng ২০২৭ সালে তাদের ‘flying car’-এর বড় পরিসরে সরবরাহ শুরু করার প্রত্যাশা করছে।

প্রাথমিকভাবে এসব যান শহরের মধ্যে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত, এয়ার ট্যাক্সি, জরুরি পরিবহন এবং পণ্য পরিবহনে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের কিছু প্রকল্পে এমন যান দিয়ে প্রচলিত সড়কপথের তুলনায় অনেক কম সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।

তবে এখনই সাধারণ মানুষ নিজের ইচ্ছামতো এসব যান চালিয়ে শহরের ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। উড্ডয়ন নিরাপত্তা, এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেশন, আকাশপথ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় আইন-কানুনসহ বেশ কিছু বিষয় এখনো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

চীন তাই শুধু একটি ‘উড়ন্ত গাড়ি’ তৈরির দিকে নয়, বরং যানবাহন, অবকাঠামো, আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একসঙ্গে উন্নত করে একটি পূর্ণাঙ্গ নিম্ন-উচ্চতার পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক