ডেস্ক রিপোর্ট: সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারি প্রশাসনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বিভিন্ন টুলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতায় সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাপ্তরিক প্রয়োজনে এআই টুল ব্যবহার করলেও তা অবশ্যই দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিতভাবে করতে হবে। বিশেষ করে কোনো ধরনের সংবেদনশীল, গোপনীয় বা শ্রেণিবদ্ধ সরকারি তথ্য উন্মুক্ত বা অননুমোদিত এআই প্ল্যাটফর্মে আপলোড, শেয়ার কিংবা বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় Official Secrets Act, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-সংক্রান্ত আইন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিধান এবং সরকারের বিদ্যমান নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। তথ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তি দাপ্তরিক কাজের গতি বাড়ানো, খসড়া প্রস্তুত, ভাষান্তর, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এআই থেকে পাওয়া তথ্য সবসময় শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে। তাই এআই-নির্ভর কোনো তথ্য সরকারি নথি, সিদ্ধান্ত বা নীতিনির্ধারণী কাজে ব্যবহারের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক যাচাই-বাছাই করতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি নথি, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ কিংবা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করলে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়েই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহারে আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করছে। বাংলাদেশেও প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা সময়ের দাবি। এ কারণে সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই নির্দেশনাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ