প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
◷ 00:00:00

'চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের' পথে ধীরগতির ইন্টারনেটই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইন্টারনেট স্পিডোমিটার গ্রাফ

 নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (Fourth Industrial Revolution-4IR) যুগে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগ ডাটা, ব্লকচেইন, রোবোটিক্স, ৫জি এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি দ্রুত রূপান্তরিত হচ্ছে। এই প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং ডিজিটাল সেবার মূল ভিত্তি হবে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো।

বর্তমানে ইন্টারনেট শুধু যোগাযোগ বা বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যাংকিং, শিল্প উৎপাদন, গবেষণা এবং সরকারি সেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিটি সেবা এখন নির্ভর করছে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন ডেটা সংযোগের ওপর। ফলে উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোও উচ্চগতির ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, ৫জি প্রযুক্তি এবং ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।

বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (ITU)-এর বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বিস্তার বাড়লে একটি দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ গিগাবিট গতির ব্রডব্যান্ড সেবা চালু করেছে, যা স্মার্ট শিল্প, ক্লাউডভিত্তিক সেবা এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম গত এক দশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও উচ্চগতির ইন্টারনেট অবকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগ করে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানির উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। একইভাবে ভারত ৫জি প্রযুক্তি বিস্তার, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলঙ্কা ও নেপালও ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও উচ্চগতির স্থায়ী ব্রডব্যান্ড সংযোগ এখনো সীমিত। দেশের অনেক গ্রামীণ এলাকায় ফাইবার অপটিক সংযোগ পৌঁছায়নি। অনেক স্থানে ইন্টারনেটের গতি প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং সেবার মান নিয়ে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও শেষ পর্যায়ে (লাস্ট মাইল) মানসম্মত সংযোগ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইন্টারনেট অবকাঠামোর উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, স্মার্ট কৃষি, ই-গভর্ন্যান্স, ই-কমার্স, ফিনটেক এবং আধুনিক শিল্প খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ৫জি প্রযুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবার ওপর কর ও পরিচালন ব্যয় কমানো গেলে সাধারণ গ্রাহক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উভয়ই উপকৃত হবে।

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার রপ্তানি, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (BPO), ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণ এবং স্টার্টআপ খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু ধীরগতির বা অনির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ালেই হবে না; নিশ্চিত করতে হবে আন্তর্জাতিক মানের দ্রুতগতির, নিরবচ্ছিন্ন এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা। কারণ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে একটি দেশের ডিজিটাল সক্ষমতা নির্ধারণ করবে তার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অবস্থান।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে "স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১" বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, নীতিগত সংস্কার এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নির্ভরযোগ্য উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক