প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

'এপিবিএনকে' আরও জনবান্ধব করতে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন।

এপিবিএনকে আরও জনবান্ধব করতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন

 প্রগতি বার্তা | জাতীয় ডেস্ক

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) আরও জনবান্ধব, কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত আইনে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা এপিবিএনের সদস্যদের দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৮তম বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এপিবিএন বর্তমানে ‘দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯’-এর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। পুরোনো এই অধ্যাদেশকে যুগোপযোগী করে বাংলায় নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশ রহিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো অধ্যাদেশের অধীনে সম্পন্ন কার্যক্রম ও নেওয়া ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো—এপিবিএনের সদস্যদের ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব।

খসড়া অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত অন্যান্য আইন অনুসরণ সাপেক্ষে এপিবিএনের সদস্যরা ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। অর্থাৎ, আইনটি কার্যকর হলে এপিবিএনের দায়িত্ব শুধু অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে তদন্ত কার্যক্রমেও তাদের ভূমিকা থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনের দায়িত্ব ও কার্যক্রমের পরিধিও স্পষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • জননিরাপত্তা রক্ষা;

  • ভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দেওয়া;

  • সরকার ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;

  • সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম;

  • মাদকবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ;

  • মানবপাচার প্রতিরোধ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা;

  • ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা;

  • মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া;

  • অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।

খসড়া আইনে এপিবিএনকে পুলিশ বাহিনীর অধীনেই রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাহিনীটি পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

অর্থাৎ নতুন আইন হলেও এপিবিএন আলাদা কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে পুলিশের কাঠামোর বাইরে যাচ্ছে না; বরং পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনের জন্য বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন এবং এসব আদালতে বিচার পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এটি মূলত বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনি কাঠামো তৈরির অংশ।

নতুন আইন প্রণয়নের আগে খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। অর্থাৎ প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মন্ত্রিসভায় খসড়াটির নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া মানেই আইনটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়ে গেছে—এমন নয়। পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এটি কার্যকর হবে।

এপিবিএন দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস দমন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার নিরাপত্তা, মাদকবিরোধী অভিযান, মানবপাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত দায়িত্ব পালন করে আসছে। নতুন আইনে তদন্তের ক্ষমতা যুক্ত হলে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে অপরাধ তদন্তের ভূমিকা আরও সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্যান্য প্রচলিত আইন মেনে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব থাকায় এপিবিএনের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক