ইরানে টানা ১১তম রাতেও মার্কিন হামলা, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাঝেই বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা।

ইরানে মার্কিন হামলা

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা ১১তম রাতেও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তেহরানের আশপাশসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কয়েকটি স্থানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে ড্রোন পরিচালনা কেন্দ্র, সামরিক বিমান সংরক্ষণাগার, লজিস্টিক অবকাঠামো এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এসব অভিযান ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ। অন্যদিকে ইরান বারবার অভিযোগ করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলা তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং এর জবাব দেওয়া হবে। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা হলে তা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করবে বলে সতর্ক করেছে। এদিকে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান সামনে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, অব্যাহত পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ