ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।

বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে অব্যাহত মার্কিন সামরিক হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় বুধবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। যদিও মূল্যবৃদ্ধির হার এখনও সীমিত, তবে বিশ্লেষকদের মতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার লেনদেন শুরুর পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৫০ সেন্ট বা ০.৫৫ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৫৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৩৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৪ দশমিক ৬৪ মার্কিন ডলারে লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমানে তেলের দামে যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে তা মূলত সম্ভাব্য ঝুঁকির প্রতিফলন। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কিংবা তেল স্থাপনা বা পরিবহন রুট সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে। এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ ও মূল্যস্ফীতির ওপরও পড়তে পারে। এদিকে বিনিয়োগকারীরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Breaking Bangla News | Latest Bangladesh & World Updates