দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তিনটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।
নিয়োগ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্যের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় আইনের বিধান অনুযায়ী এ নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামান। তিনি এ পদে অধ্যাপক খন্দোকার আশরাফুল মুনিমের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধ্যাপক খালেদ উজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন।
এদিকে, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হককে। কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের গবেষণা ও একাডেমিক অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবীবুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা, গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নবনিযুক্ত উপাচার্যরা যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাদের অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত—যেটি আগে ঘটবে—দায়িত্ব পালন করবেন। তারা নিজ নিজ বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল বা সংশোধনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। বিশেষ করে নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন উপাচার্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ