সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, প্লাবিত বহু গ্রাম।

পাহাড়ি ঢলে সড়ক বিচ্ছিন্ন

 ডেস্ক রিপোর্ট: টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পানির তীব্র স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় অন্তত আটটি গ্রামের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের একটি পাকা সড়ক পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আটটি গ্রামের বাসিন্দারা উপজেলা সদর ও জেলা শহরের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ হারিয়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই নৌকা বা বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করে চলাচল করছেন।

এদিকে সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও আশপাশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের গ্রামে ঢলের পানি ঢুকে পড়েছে। অসংখ্য বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ বাড়িতেই পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও ভারতের চেরাপুঞ্জি ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অব্যাহত বৃষ্টির প্রভাব সুনামগঞ্জের নদীগুলোতে পড়ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন। আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত এবং মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকটও দেখা দিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এলাকাগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Breaking Bangla News | Latest Bangladesh & World Updates