স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বলের দখল, আক্রমণ এবং রক্ষণ—সব বিভাগেই আধিপত্য দেখায় লা রোজা। এই জয়ের মাধ্যমে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রাখল স্পেন। ম্যাচের ২২তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের ওপর লুকাস দিনের ফাউলে পেনাল্টি পায় স্পেন। সেই সুযোগ থেকে নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল। গোল হজমের পর ফ্রান্স সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের নেতৃত্বাধীন আক্রমণভাগ স্পেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। দানি ওলমোর সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস আদান-প্রদানের পর পেদ্রো পোরো গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্পেনের হাতে এনে দেন। এরপর ফ্রান্স একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও উনাই সিমনের নেতৃত্বে স্পেনের রক্ষণ ছিল দুর্ভেদ্য। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। সাত ম্যাচে এটি তাদের ষষ্ঠ ক্লিন শিট। প্রতিপক্ষের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে একের পর এক ম্যাচে নিষ্ক্রিয় করে দলটি নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের। অন্যদিকে, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেছে ফ্রান্সের। ম্যাচ শেষে কোচ দিদিয়ের দেশঁ স্বীকার করেন, স্পেনই ছিল শ্রেষ্ঠ দল এবং তারাই জয়ের যোগ্য। ফরাসি শিবিরের অনেকেই মনে করছেন, স্পেনের মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত পাসিংয়ের বিপক্ষে তারা কার্যকর কোনো জবাব খুঁজে পায়নি। তবে ফ্রান্স পুরোপুরি খালি হাতে দেশে ফিরছে না। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে পরাজিত দুই দল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অংশ নেবে। সেখানে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের পরাজিত দল। ফলে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের সুযোগ এখনও রয়েছে এমবাপ্পেদের সামনে।

0 মন্তব্যসমূহ