ডেস্ক রিপোর্ট: টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে রাঙামাটিতে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে। কোথাও বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, কোথাও সড়ক ও সেতুর ক্ষতি হয়েছে, আবার কোথাও পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে কৃষকের ফসল।স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ। অনেক পরিবারের ঘরে এখনও কাদা জমে আছে, নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা। বরকল উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বসতঘর, দোকানপাট ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া অনেক পুকুর ও মাছের খামার পানিতে ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। অন্যদিকে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। দুর্গম হওয়ায় অনেক জায়গায় ত্রাণ পৌঁছাতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর তালিকা তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব শেষে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে পানি কমলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন