আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলন। সোমবার (২০ জুলাই) সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি আরবের সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচলের ওপর অবরোধ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
হুতিদের দাবি, বহু বছর ধরে ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ, সাম্প্রতিক বিমান হামলা এবং বেসামরিক স্থাপনায় আঘাতের প্রতিক্রিয়াতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের ভাষ্য, "চোখের বদলে চোখ" নীতির অংশ হিসেবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হুতিদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল নজরদারিতে রাখা হবে। প্রয়োজনে এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হওয়ায় এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুতিরা যদি বাস্তবে এই অবরোধ কার্যকর করতে সক্ষম হয়, তাহলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি, লোহিত সাগর হয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। জাহাজগুলোকে বিকল্প দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হলে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য সরবরাহে বিলম্ব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই ঘোষণার আগে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছিল। অপরদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকা যুদ্ধবিরতির পরিবেশ আবারও ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও পড়বে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন