আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা আবারও বেড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় বন্দর ও বন্দর-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে রাশিয়া ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বন্দর এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের রপ্তানি কার্যক্রম ও নৌপথে পণ্য পরিবহনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বন্দর অবকাঠামো, গুদাম, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং শস্য রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো। কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলা শুধুমাত্র ইউক্রেনের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে। তবে ইউক্রেন বলছে, এসব হামলায় গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে কৃষিপণ্য রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে পাল্টা অভিযানে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো, ট্যাংকার ও আজভ সাগরের নৌপথে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনের দাবি, এসব অভিযানের কারণে রাশিয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগর ঘিরে উভয় পক্ষের হামলা ক্রমেই যুদ্ধের নতুন কৌশলগত মাত্রা তৈরি করছে। এর ফলে শুধু সামরিক পরিস্থিতিই নয়, বৈশ্বিক খাদ্যশস্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মহল সংঘাত কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

0 মন্তব্যসমূহ