আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার বিশেষায়িত সামরিক কমান্ড বিমান টুপোলেভ Tu-214PU, যেটিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ডুমসডে বিমান’ বলা হয়, সম্প্রতি ইরানের রাজধানী তেহরানে অবতরণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া বা ইরান—কোনো দেশই বিমানটির সফরের আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, RA-64531 নিবন্ধিত Tu-214PU বিমানটি ১৩ জুলাই মস্কো থেকে উড্ডয়ন করে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে এটি ইরান ত্যাগ করে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। এই যাত্রাপথ ও সময় নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে। Tu-214PU মূলত রাশিয়ার একটি এয়ারবোর্ন কমান্ড ও কন্ট্রোল বিমান। এটি পারমাণবিক যুদ্ধের জন্য তৈরি প্রধান কমান্ড বিমান নয়, বরং সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপদ যোগাযোগ ও সামরিক সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি উচ্চপ্রযুক্তির উড়ন্ত কমান্ড পোস্ট। এতে উন্নত এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুরক্ষিত কমান্ড নেটওয়ার্ক এবং বিশেষ যোগাযোগ প্রযুক্তি সংযুক্ত রয়েছে। এ কারণেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একে ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে উল্লেখ করে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে সফরের উদ্দেশ্য প্রকাশ না করলেও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সমন্বয়, সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অথবা চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অতীতেও এই একই বিমানকে রুশ প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদলের সফরে দেখা গেছে।
✈ উপস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও এখন পর্যন্ত বড় যুদ্ধ বা পারমাণবিক সংঘাত শুরু হওয়ার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাশিয়ার কৌশলগত ও কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হতে পারে। তাই শুধুমাত্র এই বিমান তেহরানে যাওয়াকে আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন