আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার লেনদেন চলাকালে ব্রেন্টের দাম ১০০.৭৪ ডলারে পৌঁছায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উচ্চতা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাই বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশ্বে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই দুটি রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এসব অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ৯২ ডলারের বেশি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, ভূরাজনৈতিক সংকট দ্রুত প্রশমিত না হলে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও এটি উদ্বেগের বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময় তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব জ্বালানি খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে।
এদিকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত সমাধানের দিকে না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ