নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় নতুন একটি গ্যাস কূপের খননকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প’-এর আওতায় পরিচালিত এ কার্যক্রম সফল হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন (৭০ লাখ) ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও এলাকায় কূপটির খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে পূর্ণোদ্যমে ড্রিলিং চলছে এবং পুরো খননকাজ শেষ করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে কূপটিতে গ্যাসের প্রকৃত মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা নির্ধারণ করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে কূপটি ১ হাজার ৫৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দুটি পৃথক স্তরে গ্যাসের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। খনন শেষে ড্রিল স্টেম টেস্ট (DST) সম্পন্ন হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে কূপটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কত পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে।
ড্রিলিং প্রকল্পের ইনচার্জ জাকির হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খননকাজ সম্পন্ন করে দ্রুত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে নতুন কূপটি দেশের জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
নোয়াখালীর সুন্দলপুর এলাকায় এর আগে বাপেক্স সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ নামে তিনটি কূপ খনন করে। বর্তমানে সুন্দলপুর-২ কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে সুন্দলপুর-১ ও সুন্দলপুর-৩ কূপ থেকে বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, নোয়াখালীতে প্রথম গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন নতুন অনুসন্ধানের মাধ্যমে এ অঞ্চলে গ্যাসের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়। দেশীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার ও বাপেক্স বিভিন্ন এলাকায় নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দলপুর-৪ কূপে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর চাপ কিছুটা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।

0 মন্তব্যসমূহ