ডেস্ক রিপোর্টঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌমুহনী ও পাঁচ মাইল এলাকায় পৃথকভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
দলটির নেতারা জানান, ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষ করে গাড়িবহর গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার চৌমুহনী অতিক্রম করার সময় একদল ব্যক্তি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বহরের কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বহরটি পাঁচ মাইল এলাকায় পৌঁছালে আবারও হামলার শিকার হয় বলে অভিযোগ করা হয়। দ্বিতীয় দফার হামলায়ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে দলটির দাবি।
এনসিপির অভিযোগ, হামলায় বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী অংশ নেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপির স্থানীয় নেতারা। তাদের দাবি, দলীয়ভাবে হামলার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
হামলার পর এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা নিরাপত্তার স্বার্থে সিলেট সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। পরে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঘটনার পর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন হবিগঞ্জেও এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে ওই ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় ১০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির দেশব্যাপী কর্মসূচিকে ঘিরে একাধিক স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ