ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে আয়কর রিটার্ন, এনবিআরের ই-রিটার্নে বদলে গেছে করসেবা।

আয়কর রিটার্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া মানেই ছিল দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, কাগজপত্রের ঝামেলা এবং কর অফিসে একাধিকবার যাতায়াত। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-রিটার্ন সেবার মাধ্যমে এখন দেশের করদাতারা ঘরে বসেই কয়েক মিনিটের মধ্যে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কর সনদ (ট্যাক্স সার্টিফিকেট) এবং রিটার্ন দাখিলের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র (Acknowledgement Receipt) সংগ্রহের সুযোগও পাচ্ছেন। এই ডিজিটাল সেবাটি তৈরি করেছে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি প্ল্যাটফর্মটি এনবিআরের আয়কর ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি ডিজিটাল রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্মে করদাতারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি টিআইএন-সংক্রান্ত তথ্য, কর পরিশোধের রেকর্ড, ই-লেজার, কর সনদ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজিটাল এ ব্যবস্থার ফলে করদাতাদের সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কর অফিসে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন না থাকায় হয়রানিও কমেছে। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলের করদাতারা সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ করবর্ষ থেকে অধিকাংশ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধিরা এ বাধ্যবাধকতার বাইরে রয়েছেন। তারা চাইলে স্বেচ্ছায় অনলাইনেও রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি করবর্ষে ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় প্রায় ৫০ লাখ করদাতা নিবন্ধন করেছেন এবং ৪০ লাখেরও বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। এতে কর প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে এবং রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াও সহজ হয়েছে।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-রিটার্ন ব্যবস্থা শুধু করদাতাদের ভোগান্তিই কমায়নি, বরং একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর কর প্রশাসন গড়ে তুলতেও সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা, ব্যবহারবান্ধব ফিচার এবং অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে আরও সমন্বয় ঘটানো গেলে দেশের কর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তর আরও শক্তিশালী হবে।

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ