ডেস্ক রিপোর্ট: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে মোট ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ উৎপাদন। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০০ দশমিক ৬০ ফুট মিন সি লেভেল (MSL)। আগের দিন একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল ৯৯ দশমিক ১৫ ফুট। মাত্র একদিনের ব্যবধানে পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে। কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ১৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৪০ মেগাওয়াট।
কর্তৃপক্ষ জানায়, গত কয়েক মাস ধরে পানির স্বল্পতার কারণে পাঁচটি ইউনিট একসঙ্গে চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে কাপ্তাই হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল। হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকলে কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ ২৩0 থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়।

0 মন্তব্যসমূহ