ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে।

মধ্যেপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ছে

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে সেতু, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরান। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। চলমান সংঘাতের কারণে এ রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।শুক্রবার ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়ে জাহাজে ওঠে মার্কিন মেরিন সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ওপর আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর রাখার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় জাহাজটির নথিপত্র ও কার্গো পরীক্ষা করা হয়।

একই সময়ে ওমান উপকূলের কাছাকাছি আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে কেন্দ্র করেও নিরাপত্তা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জলসীমায় টহল জোরদার করেছে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর। একই সঙ্গে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ