হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরে লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। মাত্র তিন দিনেই শেষ হওয়া এই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখায় টাইগাররা।
ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়। জবাবে ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়ার দুর্দান্ত ১৪০ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে জিম্বাবুয়ে ৪১০ রান তোলে এবং ২৭০ রানের বিশাল লিড অর্জন করে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ফলো-অন এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শুরুতেই দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩০ এবং মুশফিকুর রহিম ৩৪ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেটি বড় ব্যবধানে হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। অভিষিক্ত আমিত হাসান ২৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৮৫ রানেই গুটিয়ে যায়।
জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। এছাড়া রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামহুরি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয় জিম্বাবুয়ের টেস্ট ইতিহাসে ইনিংস ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয়। পাশাপাশি ২০১৩ সালের পর প্রথমবার কোনো প্রতিষ্ঠিত টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তাদের দীর্ঘদিনের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এই পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ৩২৫ রান করা টাইগারদের ব্যাটাররা জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। একমাত্র টেস্ট শেষে এখন দুই দল ৬ জুলাই থেকে হারারেতেই শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে। এরপর ১৫ জুলাই থেকে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন