প্রগতি ডেস্ক: দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) বাস সড়কে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরে বায়ুদূষণ ও জ্বালানি ব্যয় কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক বাস চালু করা হলে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক ও আধুনিক পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে বাসগুলো সংগ্রহ করা হবে। এসব প্রকল্পের আওতায় নতুন বৈদ্যুতিক বাস কেনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং কারিগরি সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজও করা হবে। ফলে শুধু বাস চালুই নয়, পুরো বৈদ্যুতিক গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো তৈরি হবে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে কয়েকশ বৈদ্যুতিক বাস রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচল শুরু করবে। পরে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য শহরেও এই সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা পরবর্তী সময়ে নতুন এসব বাস যাত্রীসেবায় যুক্ত হতে পারে।
বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি দল চার্জিং প্রযুক্তি, ব্যাটারির মান, নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণে কাজ করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই বৈদ্যুতিক যানবাহন পরিচালনা সহজ হবে। এছাড়া নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বৈদ্যুতিক বাস চালুর বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ সম্ভব নয়, সেখানে ভবিষ্যতে মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক বাস চালু হলে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, পরিবহন খাতে পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং শহরের বায়ু ও শব্দদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন