প্রগতি ডেস্ক: বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশে উচ্চগতির রেল বা বুলেট ট্রেন চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি উচ্চগতির রেল যোগাযোগ নিয়েও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াও ওয়েন এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (BCIM) উদ্যোগের আওতায় উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি নিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। এই খাতে চীনের অর্জিত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হলে বাংলাদেশেও আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এখন কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অবকাঠামো, জ্বালানি, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে যৌথভাবে কাজ করছে দুই দেশ। উচ্চগতির রেল প্রকল্পও ভবিষ্যতে সেই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বুলেট ট্রেন চালু হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা কিংবা সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে যাতায়াতের সময় অনেক কমে যাবে। এতে যাত্রীসেবা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন, পর্যটন, শিল্পায়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বুলেট ট্রেন বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রকল্প। এজন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, আধুনিক রেললাইন নির্মাণ, উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এদিকে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বাংলাদেশি কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ উন্নয়নেও চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। যদিও বাংলাদেশে বুলেট ট্রেন নির্মাণের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রকল্প অনুমোদন বা বাস্তবায়নের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি, তবে চীনের ইতিবাচক অবস্থান এবং উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে সহযোগিতার আগ্রহ ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশও আধুনিক উচ্চগতির রেল যুগে প্রবেশ করতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন