আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে গেলেন। দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আকস্মিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। অ্যান্ডি বার্নহাম দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটিশ রাজনীতির পরিচিত মুখ। ১৯৭০ সালের ৭ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন্ম নেওয়া বার্নহাম কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, মিডিয়া ও ক্রীড়া এবং ট্রেজারির প্রধান সচিবসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
২০১৭ সালে জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন বার্নহাম। এরপর টানা তিনবার এই পদে নির্বাচিত হয়ে গণপরিবহন, নগর উন্নয়ন, আবাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় উত্তর ইংল্যান্ডের জন্য অতিরিক্ত সরকারি সহায়তার দাবিতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এ সময় অনেক গণমাধ্যম তাঁকে 'কিং অব দ্য নর্থ' নামে আখ্যায়িত করে।লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম বক্তব্যে বার্নহাম বলেন, তিনি এমন একটি সরকার গঠন করতে চান, যা পুরো যুক্তরাজ্যের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে। আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং জনসেবার মান উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS)-এর সংকট, অভিবাসন নীতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে তাঁকে। পাশাপাশি আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা ধরে রাখাও হবে তাঁর অন্যতম বড় পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার পরিচালনার সফল অভিজ্ঞতা বার্নহামের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুরুতেই তাঁকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তারপরও লেবার পার্টির অনেক নেতার বিশ্বাস, জনগণের সঙ্গে তাঁর সংযোগ এবং বাস্তবমুখী নেতৃত্ব যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ