মায়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ টনের বেশি সার-ডাল জব্দ, আটক ৬ পাচারকারী।

সার ডাল পাচারের সময় আটক

 নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর ভাসানচর উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ৩৫ টনের বেশি ইউরিয়া সার ও বিভিন্ন ধরনের ডাল জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোট জব্দ করা হয় এবং বোটে থাকা ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ভাসানচরের গাংগুরিয়া চরসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন একটি কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি নিয়ন্ত্রিত পণ্য উদ্ধার করা হয়, যা অবৈধভাবে মায়ানমারে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ২৪ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া সার, ৩ হাজার ৭০০ কেজি ছোলা এবং ৬ হাজার ৮৫০ কেজি বুটের ডাল। সব মিলিয়ে জব্দকৃত পণ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫০ কেজি বা প্রায় ৩৫ টন। উদ্ধার হওয়া এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭ লাখ টাকার বেশি।

অভিযানে আটক ছয়জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে জব্দ করা কার্গো বোট ও মালামাল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান ও সীমান্তপথে পণ্য পাচার প্রতিরোধে বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার, নোয়াখালী ও ভাসানচর উপকূল ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য মায়ানমারে পাচারের চেষ্টা বেড়েছে। এসব কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ